বুধবারের ট্রেডের বিশ্লেষণ:
GBP/USD পেয়ারের 1H চার্ট
বৃহস্পতিবার জুড়ে GBP/USD পেয়ারের মূল্য বাড়ছে, যদিও এটার কোন কারণ ছিল না। যেমনটি আমরা আগে উল্লেখ করেছি, মার্কিন মুদ্রাস্ফীতি সামান্য হ্রাস পেয়েছে, তবে যেটা বেশি গুরুত্বপূর্ণ তা হল মূল্যস্ফীতি কতটা কমেছে, ফেডারেল রিজার্ভের সুদের হারের ব্যাপারে এটি কী সম্ভাবনা উন্মুক্ত করে এবং প্রকৃত ফলাফল পূর্বাভাসের সাথে কতটা সঙ্গতিপূর্ণ। এই তিনটি প্রশ্নের উত্তর দ্ব্যর্থহীন। মুদ্রাস্ফীতি শুধুমাত্র 0.1% হ্রাস পেয়েছে, এটি কোন সম্ভাবনা উন্মুক্ত করে না, এবং পূর্বাভাসিত মানও প্রকৃত ফলাফলের সাথে মিলে যায়। তবে মার্কেটের ট্রেডাররা এই ছোট সুযোগকে কাজে লাগিয়ে ডলার বিক্রি করে পাউন্ড কিনছে। গত ছয় মাসে, আমরা বারবার উল্লেখ করেছি যে পাউন্ডের মূল্য যতটা উচিত তার চেয়ে বেশি বাড়ছে এবং মার্কেটের ট্রেডাররা ব্রিটিশ মুদ্রার পক্ষে বেশিরভাগ সামষ্টিক অর্থনৈতিক এবং মৌলিক ইভেন্টগুলোকে ব্যাখ্যা করছে। গতকাল, আমরা আবার এমনটি দেখতে পেয়েছি।
GBP/USD পেয়ারের 5M চার্ট
বুধবার ট্রেডারদের কাছে মুনাফা করার জন্য 5 মিনিটের টাইমফ্রেমে যথেষ্ট সিগন্যাল ছিল। প্রাথমিকভাবে, এই পেয়ার 1.2605-1.2611 এরিয়ার আশেপাশে দুটি বাই সিগন্যাল তৈরি করেছিল। এর পরে, মূল্য 1.2648-এ নিকটতম লক্ষ্যমাত্রায় পৌঁছেছে, যার পরে একটি বাউন্স হয়েছে। মূল্য 1.2605-1.2611 এরিয়ায় ফিরে আসে এবং আবার এটি বন্ধ করে দেয়। তারপরে এই পেয়ারের মূল্য 1.2691 লেভেলের প্রায় 60 পিপস মুভমেন্ট প্রদর্শন করেছে। মোটকথা, এই তিনটি ট্রেড থেকে প্রায় 70-80 পিপস লাভ করা যেতে পারে।
বৃহস্পতিবারের ট্রেডিংয়ের পরামর্শ:
প্রতি ঘণ্টায় চার্টে, GBP/USD পেয়ারের মূল্যের নিম্নমুখী প্রবণতা গঠনের দারুণ সম্ভাবনা রয়েছে, কিন্তু বুলিশ কারেকশন অটুট রয়েছে। মৌলিক পটভূমি ব্রিটিশ পাউন্ডের তুলনায় ডলারকে অনেক বেশি সমর্থন করে চলেছে। অর্থনৈতিক প্রতিবেদনগুলো প্রায়ই পাউন্ডকে সমর্থন করতে ব্যর্থ হয়, কিন্তু মার্কেটের ট্রেডাররা কার্যত সমস্ত প্রতিবেদনের ফলাফলকে ব্রিটিশ মুদ্রার পক্ষে ব্যাখ্যা করে।
যদি আমরা যৌক্তিক মুভমেন্ট দেখতে পাই, তাহলে আমরা আশা করি বৃহস্পতিবার পাউন্ডের দরপতন হবে।। যাইহোক, মার্কেটের ট্রেডাররা প্রতিদিন ব্রিটিশ মুদ্রার মূল্য বাড়াচ্ছে, তাই আমরা অনুমান করতে পারি যে এই পেয়ারের মূল্য বৃহস্পতিবারও বাড়বে। এবং শক্তিশালী সামষ্টিক অর্থনৈতিক পটভূমির অনুপস্থিতিতে এটি ঘটলে সেটা কোন ব্যাপার না। 1.2691 লেভেল থেকে একটি বাউন্স সামান্য দরপতনের কারণ হতে পারে।
5M চার্টের মূল লেভেলগুলো হল 1.2270, 1.2310, 1.2372-1.2387, 1.2457, 1.2502, 1.2541-1.2547, 1.2605-1.2611, 1.2648, 1.2691, 1.2725, 1.2787-1.2791। আজ যুক্তরাজ্যে কোনো গুরুত্বপূর্ণ ইভেন্ট নির্ধারিত নেই। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে জারি করা বিল্ডিং পারমিট এবং শিল্প উৎপাদন সংক্রান্ত প্রতিবেদন প্রকাশিত হবে। এগুলো গুরুত্বের দিক থেকে গৌণ, কিন্তু মার্কেটের ট্রেডাররা নতুন লং পজিশন ওপেন করতে এই প্রতিবেদনগুলো ব্যবহার করতে পারে।
ট্রেডিংয়ের মূল নিয়মাবলী:
1) সিগন্যাল গঠন করতে কতক্ষণ সময় নেয় তার উপর ভিত্তি করে সিগন্যালের শক্তি নির্ধারণ করা হয় (রিবাউন্ড বা লেভেলের ব্রেকআউট)। যত দ্রুত এটি গঠিত হয়, সিগন্যাল তত শক্তিশালী হয়।
2) যদি ফলস সিগন্যালের উপর ভিত্তি করে নির্দিষ্ট লেভেলের কাছাকাছি দুটি বা ততোধিক পজিশন খোলা হয় (যা টেক প্রফিট শুরু করেনি বা নিকটতম লক্ষ্যমাত্রায় পৌছায়নি), তাহলে এই লেভেলে প্রাপ্ত পরবর্তী সমস্ত সিগন্যাল উপেক্ষা করা উচিত।
3) ফ্ল্যাট মার্কেটের সময়, যেকোন পেয়ারের একাধিক ফলস সিগন্যাল তৈরি হতে পারে বা কোন সিগন্যালের গঠন নাও হতে পারে। যাই হোক না কেন, ফ্ল্যাট মুভমেন্টের ইঙ্গিত পাওয়া মাত্র ট্রেডিং বন্ধ করাই ভালো।
4) ইউরোপীয় সেশনের শুরু থেকে মার্কিন ট্রেডিং সেশনের মাঝামাঝি সময়ে ট্রেডগুলো খোলা উচিত যখন সমস্ত পজিশন ম্যানুয়ালি ক্লোজ করতে হবে।
5) আপনি 30-মিনিটের টাইম ফ্রেমে MACD সূচক থেকে সিগন্যাল ব্যবহার করে ট্রেড করতে পারেন, তবে এটি শুধুমাত্র শক্তিশালী অস্থিরতার মধ্যে ব্যবহার করা উচিত এবং একটি স্পষ্ট প্রবণতা থাকতে হবে যা ট্রেন্ডলাইন বা ট্রেন্ড চ্যানেল দ্বারা নিশ্চিত হওয়া উচিত।
6) যদি দুটি লেভেল একে অপরের খুব কাছাকাছি অবস্থিত হয় (5 থেকে 15 পিপস পর্যন্ত), সেগুলোকে সাপোর্ট এবং রেজিস্ট্যান্স লেভেল হিসাবে বিবেচনা করা উচিত।
চার্ট কীভাবে বুঝতে হয়:
সাপোর্ট এবং রেজিস্ট্যান্স লেভেলগুলো হল সেই লেভেল যা কারেন্সি পেয়ার কেনা বা বিক্রি করার সময় লক্ষ্যমাত্রা হিসাবে কাজ করে। আপনি এই লেভেলগুলোর কাছাকাছি টেক প্রফিট সেট করতে পারেন।
লাল লাইন হল চ্যানেল বা ট্রেন্ড লাইন যা বর্তমান প্রবণতা প্রদর্শন করে এবং দেখায় যে এখন কোন দিকে ট্রেড করা ভাল হবে।
MACD নির্দেশক (14, 22, এবং 3) একটি হিস্টোগ্রাম এবং একটি সিগন্যাল লাইন নিয়ে গঠিত। যখন মূল্য এগুলো অতিক্রম করে, সেটি মার্কেটে এন্ট্রির একটি সিগন্যাল। ট্রেন্ড প্যাটার্ন (চ্যানেল এবং ট্রেন্ডলাইন) এর সাথে এই সূচকটি ব্যবহার করার পরামর্শ দেওয়া হয়।
গুরুত্বপূর্ণ ঘোষণা এবং অর্থনৈতিক প্রতিবেদন অর্থনৈতিক ক্যালেন্ডারে পাওয়া যেতে পারে এবং এগুলো একটি কারেন্সি পেয়ারের মূল্যের মুভমেন্টকে মারাত্মকভাবে প্রভাবিত করতে পারে। অতএব, সেগুলোর প্রকাশের সময়, আমরা মূল্যের তীব্র ওঠানামা এড়াতে যতটা সম্ভব সাবধানে ট্রেড করার বা বাজার থেকে বেরিয়ে যাওয়ার পরামর্শ দিই।
ফরেক্সে নতুন ট্রেডারদের মনে রাখা উচিত যে প্রতিটি ট্রেড লাভজনক হতে হবে না। একটি সুস্পষ্ট কৌশল এবং অর্থ ব্যবস্থাপনার বিকাশ হল দীর্ঘ মেয়াদে ট্রেডিংয়ে সাফল্যের চাবিকাঠি।